আপনার চহিদা কিকি? সেগুলো নিচে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন


আপনি চাহিদার কোন স্তরে আছেন জেনে নিন


আপনি চাহিদার কোন স্তরে আছেন জেনে নিন

নিজস্ব প্রতিনিধি : মানুষের প্রতিটি আচরণের পিছনে কোন না কোন চাহিদা আছে। আমাদের মধ্যে যখন কোন কিছুর অভাববোধ দেখা দেয় তখন সেই অবস্থাকে বলা হয় চাহিদা। এই অভাব বোধের জন্য এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয় আর সেই জন্য আমরা কোন না কোন কাজ করি সেই অভাব মেটাতে।

এই চাহিদা মূলত দুই ধরনের।

১) মুখ্য চাহিদা (basic need)
২) গৌন চাহিদা (secondary needs)।

আমাদের প্রত্যেকের চাহিদা কতগুলো স্তরে সাজানো আছে। সর্বনিম্ন স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তরের দিকে চাহিদা গুলো ক্রমশঃ এগোতে থাকে।

১) সবচেয়ে প্রথম যে চাহিদা আমাদের আছে, যেটা ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না তা হল খাদ্য, পানীয় ও অক্সিজেন। এদের বলে দৈহিক চাহিদা।

২) যখন আমাদের খাবার জোগাড় করার চিন্তা করতে হয় না, দুবেলা খেতে ও পরতে পারছি তখন আমরা খুঁজি এক নিরাপদ আশ্রয়। আমরা কোন বাঁধা বিপত্তি ছাড়াই নিরাপদে জীবন কাটাতে চাই। একে বলে নিরাপত্তার চাহিদা।

৩) যখন‌ আমাদের খাওয়া ও মাথার ওপর ছাদ এদুটো নিশ্চিত, তখন আমরা চাহিদার পরবর্তী স্তরে চলে যাই। সেটি হল সামাজিক চাহিদা। এই সময় বন্ধু পেতে চাই, বিশ্বাস করতে চাই। চাই যে আমাকে কেউ ভালোবাসুক। সম্পর্ক তৈরী করতে চাই। একসাথে থাকতে চাই। যদি এই চাহিদা পূরণ না হয়, তাহলে আমরা একাকিত্ব বোধে ভুগি।

৪) যখন ভালোবাসার চাহিদা পূরণ হয়ে যায় তখন আমরা এর পরের স্তরে চলে যাই ।সেটি হলো শ্রদ্ধা বা সম্মান লাভের চাহিদা। এই সময় আমরা আমাদের পারদর্শীতা ও দক্ষতা সকলের সামনে তুলে ধরতে চাই। আমরা চাই যে সকলে তার উচ্চ মূল্যায়ন করুক।

এই চাহিদার দুটি দিক আছে। প্রথমতঃ নিজের কাছে নিজের যোগ্যতা, সম্মান বাড়ানো আর দ্বিতীয়তঃ মানুষের শ্রদ্ধা পাওয়া।

একটি স্তরের চাহিদা পূরণ না হলে, সাধারণত পরের স্তরে যাওয়া যাবে না। যার খাওয়া, বাসস্থানের ঠিক নেই সে বন্ধু পেতে চাইবে না।

৫) সব থেকে শেষ স্তর হল আত্মোপলব্ধির চাহিদা। এই স্তরে মানুষ নিজের অন্তর্নিহিত শক্তির পূর্ণ বিকাশ করতে চায়। তিনি নিজের প্রতিভার সম্পূর্ণ বিকাশ করে নিজের ও সমাজের কল্যাণ করেন। কোন সমালোচনা নয়, পরোনিন্দা নয়, কারুর সাথে চাওয়া পাওয়ার তুলনা নয়, তিনি নিজেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এক নির্মল আনন্দ উপভোগ করেন।

তাহলে দেখে নিন আপনি সিঁড়ির ঠিক কোন জায়গায় আছেন...