যে ১০টি কম্পিউটার স্কিল অর্জন না করলেই নয়!



ছাত্রজীবনকে বলা যায় জীবন গঠনের উপযুক্ত সময়। কেননা এই সময়টাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনার পাশাপাশি এমনকিছু গুণ ও দক্ষতা অর্জন করে থাকে, যা সারাজীবন তাদের কাজে লাগবে। বর্তমান যুগ হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ৷ কম্পিউটার ছাড়া আজকাল সবকিছু একেবারেই অচল বলা চলে৷ কী করা যায় না কম্পিউটার দিয়ে? অফিসের কাজ থেকে শুরু করে আউটসোর্সিং, স্কুলের সায়েন্স প্রোজেক্ট বানানো, বিভিন্ন ইভেন্টের ব্যানার তৈরি, কলেজের প্রেজেন্টেশনসহ অনেক কিছুই কম্পিউটারের মাধ্যমে করা সম্ভব। আর কম্পিউটারের কিছু নির্দিষ্ট স্কিল অর্জন করতে পারলে তুমি তোমার সহপাঠীদের তুলনায় এগিয়ে থাকবে কয়েকশো গুণ!

কিন্তু এইসব স্কিল শিখতে চাইলে সাথে থাকা লাগবে ইন্টারনেট সংযোগ। ইন্টারনেট সংযোগ তোমাকে পুরো পৃথিবীর নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসবে। এতে করে তোমার কাজ হয়ে উঠবে আরো সহজ ও মজাদার! পরীক্ষার আগে পড়া যেমন জরুরি, তেমনি চাকরিতে ঢোকার আগে কিছু কম্পিউটার স্কিল থাকাও প্রয়োজন।

তাই বিদ্যালয়ের অন্যান্য বিষয়গুলোর পাশাপাশি আজকাল শিক্ষার্থীদের বেসিক কম্পিউটার নলেজ থাকাটাও জরুরি। কম্পিউটারের প্রাথমিক জ্ঞান থাকা এখন যেকোনো চাকরির জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইচ্ছা, দক্ষতা এবং আইটি টুলস শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনে বেশ ভাল প্রভাব ফেলে, কিন্তু কেন কোনো বিষয়ের উপর দক্ষতা থাকা জরুরি? চলুন জেনে আসা যাক।


বাংলা এবং ইংরেজি টাইপিং দক্ষতা:

মোবাইলে আমরা সবাই আরামসে টাইপ করতে পারলেও কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে একনাগাড়ে টাইপ করা কিন্তু একটু কষ্টসাধ্য ব্যাপার। টাইপ করার সাধারণ নিয়ম হচ্ছে ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ৪০টি শব্দ এবং বাংলা ২৫টি শব্দ টাইপ করতে পারতেই হবে।

আমাদের প্রায়শই বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্টের জন্য একজন টাইপিস্টের কাছে শরণাপন্ন হই। কিন্তু আমরা নিজেরাই যদি ভালোভাবে টাইপ করতে পারি, তাহলে বাইরের কাউকে দিয়ে টাইপ করানোর প্রয়োজন হবে না। এতে করে নিজের অর্থ এবং সময়- দুটোই বাঁচবে। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে টাইপিং ছাড়া কোন চাকরি কিংবা ব্যবসায় ভাল করা সম্ভব নয়। কেননা, যোগাযোগ রক্ষায় ই-মেইল লেখা থেকে শুরু করে অন্যান্য সবা কাজেই কম্পিউটার এবং টাইপিং প্রয়োজন। তাই আমরা যদি নিজেরাই টাইপিং দক্ষতাটা অর্জন করে ফেলি, তাহলে নিজেদেরকে কোনো ঝামেলাই পোহাতে হবে না!

 https://www.artypist.com/ 

এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তুমি সহজেই টাইপিংয়ের উপর একটি ফ্রি কোর্স করতে পারবে। শুধু সার্টিফিকেটের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তাদেরকে দিতে হবে, যদি তুমি সার্টিফিকেট নিতে চাও তাহলেই।  

ডকুমেন্ট তৈরি:

কম্পিউটারের মাধ্যমে ডক ফাইল তৈরি করা হলো  আরেকটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার স্কিল। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও গুগল ডকের মাধ্যমে খুব সহজেই এবং বিনামূল্যে ফাইল তৈরি করা যায়। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড হলো বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ডকুমেন্ট তৈরির সফটওয়্যার। ৯০% মানুষ নিজেদের কাজে এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে থাকে।

ডকুমেন্ট ফাইলে শব্দ বড়-ছোট করা, হাইপার লিংক তৈরি করা, শব্দ বোল্ড, ইটালিক বিভিন্ন ফন্টে আনা, প্যারাগ্রাফ করা সহ আরো অসংখ্য ছোটখাটো স্কিল শিখে নেয়া খুব জরুরি। এই সফটওয়্যারগুলোর মাধ্যমে প্রেজেন্টেশন ও নোট খুব সহজেই তৈরি করা যায়।  

গুগল এবং Office 365 অনলাইনেও ব্যবহার করা যায়। ফলে শুধু কম্পিউটারই নয়, এর মাধ্যমে মোবাইলেও যখন তখন লেখা এবং ফাইল এডিট করা যাবে। গুগল ডকে একই ফাইলে একাধিক মানুষের এক্সেস থাকলে তারা এডিটও করতে পারবে।

গাণিতিক সমস্যাবলী এবং ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট দক্ষতা:

যখন কেউ গাণিতিক সমস্যা কিংবা কোনো হিসাব-নিকাশের কথা বলে, তখন মাথায় আসে মাইক্রোসফট এক্সেল এর নাম। মাইক্রোসফট এক্সেল মূলত হলো একধরণের স্প্রেডশিট। সেখানে বিভিন্ন ধরণের টেবিলের মাধ্যমে কোনোকিছুর পরিসংখ্যান দেখানো হয়। যেমন: শেয়ার বাজারের সূচক, অফিসের কর্মীদের কাজে আসার সময়সূচী, শিক্ষার্থীদের মার্কশিট ইত্যাদি। এই স্কিল অর্জনের মাধ্যমে তুমি খুব সহজেই ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে পারবে। আর বর্তমান আইসিটি খাতে ডাটা এন্ট্রির মতন কাজগুলোর চাহিদা কিন্তু প্রচুর। এই কম্পিউটার স্কিলটি তাই বিভিন্ন কাজে আসতে পারে!

প্রেজেন্টেশনে দক্ষতা:

প্রোজেক্ট ডিসপ্লে এবং প্রেজেন্টেশন তৈরি করার ক্ষেত্রে সেই দুইটি সফটওয়্যার আমাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে, তা হলো গুগল স্লাইড এবং মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট। এই দুইটি সফটওয়্যার প্রায় একই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলেও এদের মধ্যে বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে। মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্টে রয়েছে অসংখ্য টুলস, যার মাধ্যমে খুব সহজেই তুমি তোমার প্রেজেন্টেশনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবে। আর গুগল স্লাইডে খুব বেশি টুল না থাকলেও চটজলদি প্রেজেন্টেশন তৈরির কাজে এর কিন্তু জুড়ি মেলা ভার!

দু’টিতেই রয়েছে অসংখ্য স্লাইড তৈরি করার অপশন। সেই সাথে ছবি অ্যাটাচ করা যায়, মিউজিক অ্যাড করা যায়, থিম পালটানো যায়, ফন্ট চেঞ্জ করার পাশাপাশি এর কালার ও সাইজেও পরিবর্তন আনা যায়। বর্তমান সময়ে তাই এই কম্পিউটার স্কিলটি তোমার থাকতেই হবে!

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং:

আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছর জুড়েই কোনো না কোনো ইভেন্টের আয়োজন করা হয়৷ ইভেন্টের প্রচারণার জন্য প্রয়োজন ম্যাগাজিন, ব্যানার ও পোস্টার৷ আর তুমি যদি কম্পিউটারে এডোবি ফটোশপ আর এডোবি ইলাস্ট্রেটর ব্যবহারে পারদর্শী হয়ে থাকো, তাহলে তোমাকে আর ঠেকায় কে? এসব কাজের জন্য সবার আগে কিন্তু তোমাকেই ডাকা হবে!